এস এম রাজ, বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় পারিবারিক সম্পত্তি ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের জেরে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শহীদ হেমায়েত উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে হামিমার সৎ ভাই মোহাম্মদ আরাফাত সিকদার।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ আরাফাত সিকদার অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা মরহুম সিকদার বাদশা মিয়া জীবদ্দশায় তিনটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করে দেন। তবে বাবার মৃত্যুর কয়েক বছর পর থেকে তাঁর সৎ বোন উম্মে হামিমা পারিবারিক সম্পত্তি ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করেন।
তিনি দাবি করেন, তাঁদের জমির ওপর দিয়ে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, চলাচলের পথ সংকুচিত করা এবং তাঁদের ভোগদখলকৃত জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, উম্মে হামিমা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, পারিবারিক সম্পত্তি দখল এবং আত্মীয়দের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তাঁর আয়-সম্পদের উৎস ও উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে হয়রানি বন্ধ এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহীদ হেমায়েত উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে হামিমা। তিনি বলেন, নিজের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও স্বামীর দেওয়া অর্থ দিয়ে তিনি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া আপন ভাই ও সৎ বোনদের কাছ থেকে বৈধভাবে সম্পত্তি ক্রয় করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্পত্তি কেনার পর থেকেই কয়েকজন সৎ ভাই তাঁর চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
উম্মে হামিমা আরও বলেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁর সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে তাঁকে পৈতৃক বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মন্তব্য করুন