সোহাগ হাওলাদার, বাগেরহাটঃ
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেনকে খালাস দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আপিল বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা থেকে মুক্তি পেলেন তিনি।
এর আগে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল খান আকরাম হোসেনসহ সাত আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেন। ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খান আকরাম হোসেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তাকে খালাস দেন। তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশিত হয়নি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৩১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। পরে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ১৯৭১ সালে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও কচুয়া থানার বিভিন্ন গ্রামে রাজাকার বাহিনী পাকিস্তানি দখলদার সেনাদের সহায়তায় নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলা চালায়। এসব হামলায় গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২৬ মে মোড়েলগঞ্জের চাপড়ী ও তেলিগাতী গ্রামে হামলা চালিয়ে বহু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয় এবং অন্তত ১০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৭ জুলাই কচুয়ার হাজরাখালী ও বৈখালী রামনগর এলাকা থেকে চারজনকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ খালে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া নভেম্বর মাসে একাধিক ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার পক্ষের ব্যক্তিদের আটক, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল নারী নির্যাতনের ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, কচুয়া রাজাকার ক্যাম্পে আটক নারীদের দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ক্যাম্প তল্লাশি চালিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করেন।
ট্রাইব্যুনাল সাত আসামির মধ্যে তিনজনকে কারাগারে থাকা অবস্থায় দণ্ড দেন এবং চারজনকে পলাতক ঘোষণা করেন। তবে আপিল বিভাগের রায়ে খান আকরাম হোসেন খালাস পাওয়ায় মামলাটি নতুন করে জনমনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর খালাসের আইনি ভিত্তি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন