বাগেরহাট প্রতিনিধি: দলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে গৌরম্ভা ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে গৌরম্ভা ইউনিয়ন নাগরিক ফোরাম।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভা শেষে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
দাতা সংস্থা জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপ ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং উই ক্যান-এর সহযোগিতায় নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা সভাটির আয়োজন করে।
গৌরম্ভা ইউনিয়ন নাগরিক ফোরামের সভাপতি মো. ওবায়েদুল্লাহ গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গৌরম্ভা ইউপি প্রশাসক ও রামপাল পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাগরিক ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মোহতাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরম্ভা ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শরিফুদ্দৌলাহ, ইউপি সদস্য মো. তমেজুদ্দিন, মো. মোফাজ্জেল হোসেন, তিজারাত গাজী, মো. আবু মুছা আকুঞ্জি, চম্পক কুণ্ড, মো. আব্দুল হালিম এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য তারিকা বেগম, শাহনাজ বেগম ও নূরজাহান বেগম। সভাটি সমন্বয় করেন নাগরিক প্রকল্পের ফোকাল পার্সন ও নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিজিয়া পারভীন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রামপাল উপজেলা জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরনির্ভর বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষ জীবিকার জন্য মৎস্য আহরণ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও সাগরগামী মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, নদী ভরাট, সুপেয় পানির সংকট ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এ অবস্থায় দলিত, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, নারী, শিশু, বয়স্ক, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত ৩৯টি কার্যক্রমের মধ্যে স্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও বৃক্ষরোপণসহ সাতটি খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে ইউপি প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “স্মারকলিপিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট। ইউনিয়ন পরিষদ ম্যানুয়াল অনুযায়ী এসব ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়গুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।”
মন্তব্য করুন