বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে র্যালী আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসাদুর রহমান এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ রিয়াদুজ জামান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। উপকূলীয় জেলা হিসেবে বাগেরহাট ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। সুন্দরবনসহ উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, শিল্পায়ন ও জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সরকারের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP), জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC) এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তারা, এনজিও প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ৫ জুনের আগে পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ সরকারি ছুটি থাকায় এ বছর সরকারিভাবে ৯ জুলাই বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। দিবসটির মূল লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মন্তব্য করুন