বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক দ্বন্দ নিরশনে কাজ করার জন্য সামাজিক সম্প্রীতি কমিটি ঘোষনা করলেন এমপি শেখ মন্জুরুল হক রাহাদ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় বাগেরহাট শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে অনুষ্ঠিত “সামাজিক সম্প্রীতি ও দ্বন্দ্ব নিরসনে অংশীজনদের সংলাপ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কমিটি ঘোষনা করেন।
অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে সহযোগিতা করে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমান আলম, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার সোহেল এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, “খাল দখলমুক্ত করা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক অপরাধ বন্ধে আমরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে উদ্যোগ নিচ্ছি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, খাল দখল, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ মাদকের ভয়াবহ প্রভাবের মধ্যে পড়ে ভবিষ্যৎ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবেলায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সংলাপে বক্তারা বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে একটি চক্র নানা ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও দুর্নীতি সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এসব অপরাধ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা না হলে সম্প্রীতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি সামাজিক অবক্ষয় রোধে পরিবার ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমান আলম বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সামাজিক শান্তি ও মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সংলাপে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, তরুণ কর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন