সোহাগ হাওলাদার, বাগেরহাটঃ
বাগেরহাট-খুলনা অঞ্চলের সংরক্ষিত নারী সংসদ আসন ঘিরে জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে এখন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক পরিসরে চলছে কে পাচ্ছেন এই আসনের মনোনয়ন—তা নিয়ে জোর আলোচনা।
এ আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন শাহিদা আক্তার, যিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দল বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ বাগেরহাট ও খুলনার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শাহিদা আক্তার খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ইউনিয়ন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে বিএনপির মনোনয়নে কচুয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে সে সময় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছেন শাহিদা আক্তার। হামলা-মামলায় আক্রান্ত কর্মীদের পাশে থেকেছেন তিনি। তাই তাকে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার জোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নার্গিস আক্তার ইভা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন শাহিদা আক্তার। রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে মাঠে ছিলেন। এখন দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চান তারা।
বাগেরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক বিলকিস আক্তারও একই মত প্রকাশ করে বলেন, তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন শাহিদা আক্তার। তার ত্যাগ ও অবদান বিবেচনায় তাকে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা কামাল হোসেন বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি এবং বর্তমানে জেলা মহিলা দলের সভাপতি—প্রতিটি পর্যায়েই তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিলে দল ও এলাকার মানুষ উপকৃত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন