বাগেরহাট প্রতিনিধি:
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাগেরহাটে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহের হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় দত্ত।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নুরে জান্নাত, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, কৃষক দলনেতা ফিরোজ খান, ভেটেরিনারি সার্জন অনুপ দাসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, পিএফএস ও নন-পিএফএস কৃষক-কৃষাণী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার।
বক্তারা বলেন, পার্টনার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নতুন কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা। একই সঙ্গে দেশের কৃষিকে খোরপোষভিত্তিক চাষাবাদ থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন জাতের ফসল সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের কার্যকর বাজারজাতকরণ, খাদ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী কৃষি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে কৃষি তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত কলাকৌশল পৌঁছে দিয়ে টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, কৃষির আধুনিকায়ন ও কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এর আগে সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে এ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন। স্টলগুলোতে উন্নত জাতের বিভিন্ন ফসল ও কৃষিপণ্য প্রদর্শন করা হয়, যা অতিথিবৃন্দ ও উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে নিম, পেয়ারাসহ বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মন্তব্য করুন