মোঃ মাহফুজ, রামপাল : রামপাল উপজেলার রোমজাইপুরে মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও যোগাযোগের সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবেদন, স্মারকলিপি, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।
সবশেষ গত ৩০ আগস্ট নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে রোমজাইপুরে বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ওই কর্মসূচিতে প্রায় এক হাজার মানুষ অংশ নেন। নদীর তীরে দাঁড়িয়ে তারা ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
তবে প্রতিবাদের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বদলে গেছে দৃশ্যপট। স্থানীয়দের ভাষ্য, যেই স্থানে দাঁড়িয়ে তারা নদীভাঙন রোধে বাঁধের দাবি জানিয়েছিলেন, সেই জায়গাটির একটি অংশও এখন নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তাদের কাছে ঘটনাটি রোমজাইপুরের নদীভাঙনের ভয়াবহতার একটি দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। কোথাও নদীতে চলে গেছে ফসলি জমি, আবার কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় সড়ক। এতে মানুষের বসবাস, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন যোগাযোগব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরে আবেদন করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে নদীর তীরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তাদের মূল দাবি—পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানোর পরও এমন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা তাদের বসতভিটা ও জমিকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করতে পারে। তারা বলছেন, সাময়িক ব্যবস্থা নয়, ভাঙনপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বসতভিটা, কৃষিজমি ও সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে নতুন করে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
রোমজাইপুরবাসীর প্রশ্ন, “যে জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছিলাম, সেই জায়গাটিও যদি নদীতে চলে যায়, তাহলে আগামী দিনে কোথায় দাঁড়িয়ে নিরাপত্তার দাবি জানাব?”
স্থানীয়দের দাবি, এখনই কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া না হলে নদীভাঙন শুধু ভূমি হারানোর ঘটনা থাকবে না; এটি রোমজাইপুরের মানুষের বসতি, যোগাযোগব্যবস্থা ও জীবন-জীবিকার ওপর দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করবে।
মন্তব্য করুন