বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোংলায় বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া শুরুর কিছু আগে অনুষ্ঠানস্থলে হামলা ও খাবার লুটের অভিযোগ উঠেছে। বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম দোয়া অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে মোংলা উপজেলার হেলিপ্যাড মাঠে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মোলার সর্বস্তরের নাগরিক সমাজের ব্যানারে দোয়া মাহফিলের আয়োজন হলেও, ত্বত্ত্বাবধায়নে ছিলেন বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম।
আয়োজকদের অভিযোগ, দোয়া মাহফিলে বিতরণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষের জন্য খাবার প্রস্তুতের কাজ চলছিল। বেলা ১টার দিকে সভা মঞ্চ সংলগ্ন খাবার ও প্যাকেট তৈরির তাঁবুতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। তাঁরা কিছু খাবার নিয়ে যায় ও প্যাকেট নষ্ট করে। এ সময় খাবার প্রস্তুতের তত্ত্বাবধানে থাকা দুইজন আহত হন।
তারা হলেন- রামপাল উপজেলার ৬ নম্বর হুড়কা ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছোবহান মোল্লা ও মো. মাইনুল। তাঁরা দুজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের কর্মী।
আহত ছোবহান মোল্লা বলেন, হামলার সময় জীবন বাঁচাতে মোবাইল ফোন ফেলে থানার ভেতরে আশ্রয় নেই। পরে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে ঘটনার পরেও বিকেল ৫টার দিকে এম এ এইচ সেলিমসহ তাঁর কর্মীরা হেলিপ্যাড মাঠে পৌঁছায় এবং সেখানে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এম এ এইচ সেলিম বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বাগেরহাট ১, ২ ও ৩ এই তিনটি সংসদীয় আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
দোয়া অনুষ্ঠান শেষে সোমবার সন্ধ্যা ৭ টায় মোংলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেন এম এ এইচ সেলিম।
তিনি বলেন, নাগরিক সমাজের ব্যানারে বেগম খালেদা জিয়ার রুহুর মাগফিরাত কামনার জন্য এই দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতে আমাকে ঢাকায় গিয়ে দাওয়াত দেয়া হয়। তাদের দাওয়াত গ্রহণ করে আমি এখানে এসেছি।
নদীর ওপারে থাকতেই আয়োজকরা আমাকে বলে, ওপার যাওয়ার দরকার নেই, লোকজন নেই, সব ভেঙে ফেলছে। কিন্তু আমি বলেছি, যে মাঠে আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া অনুষ্ঠান, সেখানে আমি যাব না, তা হতে পারে না। পরে দোয়া অনুষ্ঠান হয়েছে, আমি ছাড়াও, এখানে এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন এবং খেলাফাত মজলিসের এমপি প্রার্থীরা দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি থেকে ‘মনোনয়ন বঞ্চিত’ হওয়ার বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে তাকে গুম করে ফেলা হত। তাই দখন দলের জেলার সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি যেহেতু একজন স্বতন্ত্র ক্যানডিডেট, আমি আসতেছি, এ কারণেই হয়তো তারা কেউ না কেউ এটা করাইছে। এখানে যিনি হয়তো বিএনপি’র প্রার্থী হয়েছেন, উনি বা উনার কোন ইন্ধন থাকে পারে।
এম এ এইচ সেলিম বলেন, আবু হোসেন পনী ও আবুল কাশেম নামের দুজনের নেতৃত্বে ওই হামলা হয়েছে বলে আয়োজকদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন।
আবু হোসেন পনী মোংলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং আবুল কাশেম পৌর যুবদলের সদস্য সচিব।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবু হোসেন পনী বলেন, ”আমরা যেহেতু মোংলায় ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছি, তাই আমাদের কালার করতে মেহেদী হাসান মিঠু (সম্মিলিত নাগরিক সমাজ নামে ওই আয়োজনের উদ্যোক্তা) পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ করছে।
বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান মিঠু বলেন, মূলত আমি বিএনপির একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। আমি দলের বাইরের লোক নয়। এখানে যেহেতু সাবেক সভাপতি এমএএইচ সেলিম প্রদান অতিথি তাই পনি ও আবুল কাশেম হামলা করেছে। দুই দিন আগেও তারা আমার উপর হামলা করেছিল। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছি। এখনও কোন আসামীকে আটক করেনি পুলিশ।
‘হামলার বিষয়ে জানতে একাধিক বার মোংলা থানার ওসিকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তেমন গুরুতরও কিছু হয়নি। থানায় কোন অভিযোগ বা মামলাও হয় নি।
মন্তব্য করুন