বাগেরহাট প্রতিনিধি:
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিলভার লাইন গ্রুপ বাগেরহাট জেলার সকল ইউনিয়নে সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা চালু করেছে। সিলভার লাইন গ্রুপের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম.এ.এইচ. সালিমের জ্যেষ্ঠ পুত্র মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির আওতায় কলেজ, চায়ের দোকান (টং), বাজার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে ইন্টারনেট এক্সেস পয়েন্ট স্থাপন করা হচ্ছে, যা শহর ও গ্রামের মানুষের জন্য একটি নতুন ডিজিটাল কমিউনিটি হাব হিসেবে কাজ করবে।
সোমবার বাগেরহাটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। ডিজিটাল যুগে শিক্ষার্থী, যুবসমাজ, উদ্যোক্তা ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, তথ্য, সরকারি সেবা এবং অর্থনৈতিক সুযোগে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
সিলভার লাইন গ্রুপের পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন,
“আজকের বিশ্বে ইন্টারনেট আর বিলাসিতা নয়, এটি শিক্ষা, সুযোগ এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য একটি মৌলিক প্রয়োজন। আমরা বাগেরহাটের ৯০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে—চায়ের দোকান ও বাজারসহ—বিনামূল্যে ইন্টারনেট চালু করছি। এতে চায়ের দোকানের ঐতিহ্যবাহী আড্ডার সংস্কৃতিও বজায় থাকবে এবং এক ধরনের উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘কমিউনিটি স্টারবাকস’ মডেল তৈরি হবে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত।”
তিনি আরও জানান, ধাপে ধাপে এই সেবা প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ এলাকায় সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে কোনো গ্রাম, কোনো শিক্ষার্থী কিংবা কোনো নাগরিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ থেকে পিছিয়ে না পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তরুণ ও সাধারণ পরিবারগুলো শিক্ষা, চাকরির সুযোগ, সরকারি সেবা এবং বৃহত্তর অর্থনীতির সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত হতে পারবে।
সিলভার লাইন গ্রুপ জানিয়েছে, এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য বাগেরহাটে ডিজিটাল বৈষম্য কমানো, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংযোগ শক্তিশালী করা এবং কমিউনিটি উন্নয়নে অবদান রাখা।
প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন,
“শহর শুধু ভবন দিয়ে তৈরি হয় না, মানুষে-মানুষে সংযোগই একটি শহরকে গড়ে তোলে। সংযোগই প্রকৃত অবকাঠামো। মানুষ যখন সংযোগ পায়, তখন তারা নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে তুলতে পারে—এভাবেই কমিউনিটি শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপ নেয়।”
এই উদ্যোগ প্রযুক্তিতে নয়, বরং মানুষের ওপর এবং বাগেরহাটের ভবিষ্যতের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন