বাগেরহাট প্রতিনিধি:সূর্যের আলো ফোটার আগে থেকেই তেলের পাম্পে মোটরসাইকেল চালক ও বিভিন্ন যানবাহন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিদিষ্ট পরিমাণ তেল সংগ্রহ করছে তারা। যা তীব্র তাপদাহের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।অনেকে আবার তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এদিকে এই পরিস্থিতিতে মোটর যান চালকদের কিছুটা সস্তি দিতে জেলা ছাত্রদল ব্যাতিক্রম ধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করছে ।
রোববার (৫ এপ্রিল) দিনব্যাপী খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে লাইনে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে পানি ও স্যালাইন বিতরণ করেন তারা।তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে সবাইকে সচেতন করা হয়—যাতে কেউ অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুত না করে এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ীই তেল গ্রহণ করে। এতে করে সবার জন্য ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নেতা শেখ আল মামুন, আল ইমরান, ইমরান হাওলাদার বাবু,গাজী রিয়াজুল ইসলাম,রোহিত হালদার,ইমন শেখ,রিজভী গাজী,কাইফ শেখ,আব্দুল্লাহ সরদার প্রমূখ।
আসিফ নামের এক চালক বলেন, অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, গরমে খুব কষ্ট হয়। আজকে ছাত্রদল পানি ও স্যালাইন দিয়েছে এতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। এমন উদ্যোগ আরও হওয়া দরকার।আমি মনে করি এটা ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক দিক।
আব্দুলাহ শেখ নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনও তেল পাইনি। কাজের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। গরমে শরীরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তবে আজকে পানি আর স্যালাইন দেওয়ায় একটু স্বস্তি লাগছে। এমন সহযোগিতা সত্যিই অনেক উপকারে আসছে।
আশিকুর রহমান নামের আরেক বাইক চালক বলেন,আমি প্রতিদিন সকাল ৬ টা থেকে লাইনে দাড়ায় তেল পেতে পেতে ১০ টা বাজে।তারপর আবার আমি ভাড়ায় লোক টানি।কিন্তু ৩০০ টাকার তেল প্রতিদিন শেষ হয়ে যায়। প্রতিদিন না খেয়ে এসে দাড়ায়। প্রচন্ড গরমে ক্লান্ত হয়ে যায়। আজ ছাত্রদল পানি ও স্যালাইন দিচ্ছে এতে আমাদের ক্লান্ত দূর হচ্ছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নেতা শেখ আল মামুন বলেন,পজেটিভ রাজনীতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূলনীতি। এই স্লোগানকে সামনে রেখে জেলা ছাত্রদল মানবিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদলকে জনগণের সাথে থাকতে বলেছেন এজন্য ছাত্রদল জনগণের পাশে সবসময় রয়েছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকেরা অনেক কষ্টে আছেন। তারা এই গরমে তিন চার ঘন্টা দাড়িয়ে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন।এতে অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।অনেকে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে।তাই মোটরসাইকেল চালকদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করার জন্য আমাদের এই ছোট্ট উদ্যোগ। আমরা মানুষের পাশে থাকতে চাই।অনেকেই আছেন আগে ২০০ টাকার তেল নিতো তারা এখন ১০০০ টাকার তেল নেই।এভাবে বিভিন্ন সিন্ডিকেট তেল মজুত করে। তারা যাতে তেল মজুত না করে আমরা সেই কথা ই তাদের বুঝাচ্ছি।
মন্তব্য করুন