দৈনিক দেশ বাংলা
১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে দ্বিধায় ট্রাম্প কেন?

অনলাইন ডেস্ক

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে ধারাবাহিকভাবে কঠোর বার্তা দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠিন প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তবে এতসব হুঁশিয়ারির পরও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলার প্রশ্নে এখনো স্পষ্ট অবস্থানে যেতে পারছেন না তিনি।

এর আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একাধিক বার্তায় ট্রাম্প ইরানি জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর নিপীড়নের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির মুখে দাঁড়াতে হবে। এমনকি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ স্থগিত রাখার ঘোষণাও দেন তিনি।

এই অবস্থায় ওয়াশিংটনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা নতুন করে জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য একদিকে প্রত্যাশা তৈরি করছে, অন্যদিকে তাঁকেই একটি কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তবে এটি সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার ইঙ্গিত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত বা প্রতীকী হামলা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিরোধক্ষমতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সিআইএ পরিচালক লিয়ন পানেটা সিএনএনকে বলেন, ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরানি জনগণকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তবে তিনি এটাও বলেন, এর অর্থ পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয়, বরং কার্যকর কোনো উদ্যোগ।

মানবিক দিক থেকেও চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্পের বারবার দেওয়া বক্তব্যে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।